Tuesday, August 11, 2015

হাইটেক পার্কে ফাইবার অ্যাট হোমের ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ

কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের ৩ নাম্বার ব্লকের উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ফাইবার অ্যাট হোমের কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড। কনসোর্টিয়ামে ফাইবার অ্যাট হোমের সাথে রয়েছে টেকনোলজি পার্ক মালেশিয়া ও আইরিশ কর্পোরেশনের জয়েন ভেঞ্চার, এমএসসি টেকনোলজি সেন্টার এবং আলফা ইনফরমেটিকস লিমিটেড। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এই কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বাণিজ্যিক এই ব্লকটি ৪০ একর জায়গার। চুক্তি অনুয়ায়ি টেকনোসিটি এই ব্লকে ২০০ কোটি টাকা(প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করবে। পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের পর টেকনোসিটি ৪০ বছর এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে। যদিও তা কাজের সক্ষমতার ভিত্তিতে ১০ বছর করে ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ব্লকটি থেকে সরকারের মুনাফা শেয়ারের অংশ হচ্ছে, বিল্ডিং স্পেস ভাড়া হতে ১২ শতাংশ, ভূমি লিজ থেকে ২১ শতাংশ, ইউটিলিটি চার্জ ৫ শতাংশ অন্যান্য আয় ৬ শতাংশ। হাইটেক পার্ক-১ এরআগে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এই হাইটেক পার্কটি নির্মাণে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির সাথে সামিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড মার্চেন্টিয়াল কর্পোরেশন (এসআইএমসিএল) এবং ভারতীয় কোম্পানি ইনফিনিটির যৌথ কনসোর্টিয়াম সামিট টেকনোপলিসের সাথে চুক্তি করে হাইটেক পার্ক। টেকনোপলিস হাইটেক পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তারা পার্কের ২ এবং ৫ নম্বর ব্লকের অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। এই কনসোর্টিয়ামও অবকাঠামো উন্নয়নের পর ৪০ বছর এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৪ বছর নানা জটিলতায় ঝুলে থাকার চলতি বছরের জুনে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের মূল নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই মাসেই পার্ক উন্নয়নে টেকনোপলিসের সাথে হাইটেক পার্কের প্রথম চুক্তি হয়। তখন চুক্তি অনুয়ায়ি সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক চুক্তির পরপরই এসআইএমসিএল-ইনফিনিটিকে নির্মাণ কাজ শুরু করতে বলেন। এরআগে জুনাইদ আহমেদ পলক দেশের সবচেয়ে বড় এই হাইটেক পার্ক নির্মাণে ১৪ বছর ধরে জমে থাকা নানা জটিলতা মিটিয়ে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্যোগ নেন। এদিকে হাইটেক পার্ক ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীরা বিদ্যু বিল ও যোগানদার সেবার ক্ষেত্রে কর মওকুফ পাচ্ছেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ কর মওকুফের প্রস্তাব করেন। এছাড়া হাইটেক পার্কের ডেভেলপার এবং এ সকল অঞ্চল বা পার্কে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগও গ্রহণ করছে সরকার। হাইটেক পার্ক-২ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মার্চ-এপ্রিলে নতুন উদ্যমে কাজ শুরুর আগে এই হাইটেক পার্কের নির্মাণে টেকনোলজি পার্ক মালয়েশিয়াকে ঠিকাদার হিসাবে নির্বাচিত করা হলেও তারা কাজ শুরু করতে পারেনি। তখন এ কোম্পানির স্থানীয় অংশীদার ঋণ খেলাপী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। কোম্পানিটি আদালতে গেলেও টেকনোলজি পার্ক আর কাজ পায়নি। সে বছর ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালে মার্চে নতুন করে দরপত্র জারি করে হাইকেট পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরপর নতুন টেন্ডারে কাজ পেতে যে সাতটি কোম্পানি আবেদন করেছিল সেগুলার মধ্যে আগের দফায় কাজ পাওয়া টেকনোলজি পার্ক মালয়েশিয়াও (টিপিএম) ছিল। যৌথভাবে অপর এক মালয়েশিয়ান কোম্পানি ফাইবার এডকমের সঙ্গে কাজ পেতে আবেদন করেছিল তারা। অপর কোম্পানিগুলোর মধ্যে দেশীয় কোম্পানি মীর টেলিকম ও ইউএসএর জীবন টেকনোলজি এককভাবে এবং রেজা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যৌথভাবে, অপর দেশীয় কোম্পানি সামিট কমিউনিকেশন এককভাবে এবং ভারতীয় কোম্পানি ইনেফো টেকের সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাব দিয়েছিল। শেষে সামিট ও ইনফো টেকের যৌথ কনসোর্টিয়াম এসআইএমসিএল-ইনফিনিটি হাইটেক পার্ক ২ ও ৫ নাম্বার এবং ফাইবার অ্যাট হোমের কনসোর্টিয়াম ৩ নাম্বার ব্লকের কাজ পায়। আর ৪ নাম্বার ব্লকটি এখনও প্রক্রিয়াধীন।
=====================================================================
আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : 

No comments:

Post a Comment