Friday, March 27, 2015

তিন মাসেই অন্য সাব্বির

মাস তিনেক আগেও তো জানতেন না বিশ্বকাপে খেলবেন...’, মুঠোফোনে এটুকু বলার পরই থামিয়ে দিলেন সাব্বির রহমান, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান, আমি আরেকটু আগে থেকে বলি...।’ তিন মাস নয়, সাব্বির শুরু করলেন তারও দু-এক মাস পেছনে গিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত নভেম্বর-ডিসেম্বরের হোম সিরিজ থেকেই যে একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে জীবনের রং! কাল রাজশাহী থেকে বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপ কেন, আমি তো এটাও জানতাম না যে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলব। সেখানে ভালো খেলে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাব। পাঁচ-ছয় মাস আগেও আমার চিন্তায় জাতীয় দল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছিল না।’ তবে জীবনের মোড়টা যে বিশ্বকাপই ঘুরিয়ে দিয়েছে, মানছেন সেটাও, ‘এটা ঠিক, গত তিন মাসেই জীবনটা বেশি বদলে গেছে।’ জাতীয় দলের অন্য ক্রিকেটারদের মতো সাব্বিরকেও এই উপলব্ধি দিয়েছে বিশ্বকাপ। সুদূর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের গ্যালারিতে লাল-সবুজের ঢেউ প্রাণে জাগিয়েছে দেশাত্মবোধের স্পন্দন। বড় মঞ্চে ভালো খেলা আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক। এনে দিয়েছে খ্যাতি। সাব্বিরের কাছে এসবই ‘নতুন অভিজ্ঞতা’। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন দেশে এসেও। ২২ মার্চ দেশে ফিরে ওই রাতেই বিমানবন্দর থেকে রওনা হন রাজশাহীর উদ্দেশে। নাটোর পর্যন্ত সঙ্গী সতীর্থ তাইজুল ইসলাম। বাহন কিনা অ্যাম্বুলেন্স! অবরোধের মধ্যে যেন নাশকতার শিকার না হতে হয় সে জন্যই ওই ‘ছদ্মবেশ’। তাইজুলকে নাটোরে ছেড়ে ভোর চারটার দিকে রাজশাহীর বালিয়াপুকুর এলাকার বাড়িতে পৌঁছায় সাব্বিরের অ্যাম্বুলেন্স। চমক অপেক্ষা করছিল সেখানে। পরিবারের সদস্যরা তো ছিলেনই, ভিড় লেগে ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদেরও। ‘বিশ্বকাপ-নায়ক’কে বরণ করে নিতে ভোররাত পর্যন্ত সবাই অপেক্ষায়। সেই থেকে জীবনটা যেন কাটছে ঘোরের মধ্যে। সাব্বিরই বলছিলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি, সবাই জেঁকে ধরছে। অনেক দূর থেকেও ছোট ছোট বাচ্চারা বাসায় চলে আসছে আমার সঙ্গে দেখা করতে, অটোগ্রাফ নিতে। তাদের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ এ তো গেল অপরিচিত ভক্তদের কথা। নানা রকম দাবি মেটাতে হচ্ছে কাছের মানুষদেরও, ‘সবাই খুবই খুশি। আমি যা-ই খেলেছি, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, এটাই তাদের কাছে বড়। সেলিব্রেট করতে বন্ধুদের খাওয়াতেও হচ্ছে।’ উল্টো দিক থেকে পাচ্ছেন সাব্বিরও। পরশু রাজশাহীর জিরো পয়েন্টে যেমন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার উদ্যোগে হয়ে গেল বিশাল সংবর্ধনা। সাব্বির জানালেন, ‘১০-১২ হাজারের মতো লোক হয়েছিল। বড় বড় মানুষ ছিলেন। সবাই খুব ভালো ভালো কথা বললেন। জীবনে প্রথম সংবর্ধনা পেলাম।’ প্রথম, তবে শেষ নয়। দু-চার দিনের মধ্যে রাজশাহীতে নাকি তাঁর আরও কয়েকটা সংবর্ধনা হবে। দেশে ফিরে যে শুধু অটোগ্রাফ দিচ্ছেন আর সংবর্ধনা নিচ্ছেন, তা নয়। সাব্বির এর মধ্যে খেলে ফেলেছেন একটি ম্যাচও! গত মঙ্গলবার রাজশাহী ক্রিকেট লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ছিল টাউন ক্লাব আর প্রভাতী সংঘের মধ্যে। অনেকের অনুরোধে এই ম্যাচে টাউন ক্লাবের হয়ে খেলেন সাব্বির, ধরে রাখেন বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা। ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৩৩ রান, শিরোপা জিতেছে সাব্বিরের দলই। ওই ম্যাচের আগে সাব্বির সংবর্ধনা পান টাউন ক্লাবের পক্ষ থেকেও। তবে তাঁর কাছে এসব সংবর্ধনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাবা মোস্তাফিজুর রহমানের তৃপ্তি। বাবার আশা ছিল ক্রিকেটার ছেলেকে একদিন বিশ্বকাপে খেলতে দেখবেন। ‘আব্বুর ইচ্ছাটা পূরণ হয়েছে। বিশ্বকাপে আমার যেটুকুই অর্জন সেটা আমি তাঁকেই উৎসর্গ করেছি’—ছেলের কণ্ঠে আবেগ। তা বাড়ি ফেরার পর কী কথা হলো বাপ-ছেলেতে? আশ্চর্য, বিশ্বকাপে পরিস্থিতির দাবি মেটাতে যে সাব্বিরের ব্যাট পরিণত হতো ধারালো তলোয়ারে, সহজ-সরল এই প্রশ্নে সেই সাব্বিরই কিনা কুঁকড়ে গেলেন! কেন? সাব্বিরের মুখ থেকেই শুনুন, ‘আব্বুকে আমি খুব ভয় পাই। ওনার সঙ্গে ওভাবে কথা বলি না। আব্বু যে আমার খেলা দেখে খুশি হয়েছেন সেটা আম্মার কাছে শুনেছি। বিশ্বকাপে আমরা ম্যাচ জেতার পর অনেকেই নাকি আব্বুর কাছ থেকে এটা-ওটা উপহার নিয়ে গেছে।’ জীবনের কত গল্পই বদলায়, বদলায় না ঘরের কোণের একান্ত গল্পগুলো। বিশ্বকাপ সাব্বিরের জীবনের রং বদলে দিলেও বাবার সঙ্গে তাঁর যুগল ছবিটা আছে আগের মতোই।

আউটসোর্সিং

ওডেস্কে যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়:
অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেওয়ার-নেওয়ার জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে অনেক সময় কাজদাতাদের কাছে স্প্যাম ও কপি-পেস্ট করা কভার লেটার চলে যায়। এগুলোর হাত থেকে বাঁচতে এবং মুক্ত পেশাজীবীদের (ফ্রিল্যান্সার) দক্ষতা যাচাই করতে কাজ দেওয়ার সময় কিছু প্রশ্ন রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর দেখেই কাজদাতা বা ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে কাজটি কারা করতে পারবে। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা অনেক সময় প্রশ্নগুলো বুঝতে পারেন না। তাই তাঁরা প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেন না, ফলে কাজ পান না। ওডেস্ক জব পোস্টে সাধারণত যে ধরনের প্রশ্ন থাকে—
 ১. প্রজেক্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আপনার কোনো সাজেশন আছে কি?
 ২. এই কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো ওডেস্ক টেস্ট কি দিয়েছেন এবং সেগুলোতে কি ভালো করেছেন? 
৩. এই কাজের কোন অংশটুকু আপনার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে?
 ৪. ঠিক এ রকম কোনো প্রজেক্টে কি আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, যদি থাকে তবে কেন কাজটি করেছিলেন? 
৫. প্রজেক্টের কোন অংশটি সম্পন্ন করতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগবে বলে আপনার মনে হয়? 
৬. এই প্রজেক্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে কি? এখানে এমন কোনো প্রশ্ন নেই যা সহজে বোঝা যায় না। যারা কাজটি ভালোভাবে বুঝবেন এবং করতে পারবেন তাঁরা অবশ্যই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। যাঁরা কাজটি ভালোভাবে বুঝতে পারেননি বা করতে পারবেন না তাঁরা হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন না। তাই আপনার যদি কাজ জানা থাকে তাহলে কভার লেটার লিখতে এবং কাজ পেতে কোনো সমস্যা হবে না।


এবার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

ধ্রুপদী পুরাণে ‘অ্যাকুইলা’ হচ্ছে জুপিটার দেবতার বজ্রবাহী ইগল। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফেসবুক ‘অ্যাকুইলা’ নামটিকে তাদের ইন্টারনেট ড্রোন প্রকল্পের কোড নাম হিসেবে বেছে নিয়েছে। এই ড্রোনের মাধ্যমে বিশ্বের ৫০০ কোটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
ইংরেজি ‘ভি’ আকৃতির মানববিহীন এই যানটির পাখার দৈর্ঘ্য বোয়িং ৭৬৭-এর সমান। এর ওজন ছোট একটি গাড়ির সমান। এই চালকবিহীন বিমানের সাহায্যেই ইন্টারনেট সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছাতে চাইছে ফেসবুক। সৌরশক্তিচালিত এই যানটি আকাশে ওড়ার সময় ইন্টারনেট বিম ছাড়বে। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি ড্রোন আকাশে ছেড়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে ফেসবুকের।
ইতিমধ্যে প্রযুক্তি জগতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইন্টারনেটের বাজারে দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গুগল ইতিমধ্যে বেলুনের মাধ্যমে আকাশ থেকে ইন্টারনেট সেবা, দ্রুতগতির ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে কাজ করছে। আমাজন ডেটা সেন্টার, পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ড্রোন প্রভৃতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ফেসবুকের মতো বড় প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে থাকবে কেন? অন্য প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের মতো নতুন কিছু করে দেখানোর চাপ ছিল ফেসবুকের ওপর। তাই সরাসরি কোনো পণ্য বা সেবার বদলে আরও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ফেসবুক, গুগল, আমাজনের গৃহীত এই ধারণাগুলো মধ্যে যেকোনো একটি সফল হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এড লাজোস্কা বলেন, ‘ফেসবুক, গুগল, আমাজন সম্পূর্ণ নতুন জিনিস নিয়ে কাজ করছে যা মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে। হিউলেট-প্যাকার্ড (এইচপি) বা আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানও আছে কিন্তু তারা এত বড় প্রকল্প নিয়ে ভাবছে না।’
সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথা তুলে ধরেন। ফেসবুক কীভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেসেঞ্জারের কোড খুলে দিচ্ছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। মোবাইল কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁর এই পদক্ষেপ কতখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি। মানুষের মধ্যে ফেসবুকের প্রভাব বাড়াতে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ড্রোন, ভারচুয়াল রিয়েলিটিযুক্ত চশমা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরি করবে ফেসবুক সে তথ্যও জানান তিনি।
সম্মেলনে ফেসবুকের মোবাইল মেসেজিং অ্যাপ যেভাবে ৫০ টিরও বেশি অ্যাপ সমর্থন করবে সে তথ্য জানান তিনি। জাকারবার্গ ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এতদিন আমরা কেবল মেসেঞ্জারের সব ফিচার নিজেরাই তৈরি করে মেসেঞ্জারকে উন্নত করতে কাজ করেছি। এখন আমরা এই প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অ্যাপ নির্মাতাদের সৃজনশীলতাকে তুলে আনতে চাই।
ফেসবুকের ড্রোন
আরও পড়ুন:
গত বছরে অ্যাসেন্টা নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করেছিল ফেসবুক। ওই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ফেসবুকে ড্রোন টিম। এই টিমটি সৌরশক্তিচালিত ড্রোন তৈরি করবে যা একটানা তিন মাস আকাশ থেকে (৬০ হাজার থেকে ৯০ হাজার ফুট) দ্রুত গতির লেজার বিম নিক্ষেপ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পারবে। এ বছরেই এই ড্রোনের পরীক্ষা চালানো হবে। তবে, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই ড্রোন চালু করতে আরও কয়েক বছর লেগে যাবে।
ফেসবুক কানেকটিভিটি ল্যাবের প্রধান ইয়েল ম্যাগুয়ার বলেন ‘আমরা বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা দিতে চাই। আমরা কী এমন একটি জায়গায় যেতে পারব যেখানে বিশ্বের সব মানুষ একই সময়ে একই বার্তা পাবে? আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি। সেই দিনটি পেতে হয়তো অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে।’


Source:P.Alo

ICC Cricket World Cup-2015

ICC Cricket World Cup 2015
Live on http://adf.ly/1Br8JB


Education In Bangladesh: Famous Schools in Bangladesh(Bangla & English medi...

Education In Bangladesh: Famous Schools in Bangladesh(Bangla & English medi...: দেশের সেরা ইংলিশ ও বাংলা medium স্কুল এর অফিসিয়াল website পেতে visit করুনঃ